ঢাকারবিবার, ২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বিভিন্ন ফল ও সবজির বিচির গুনাগুন ও উপকারিতা

ঢাকা কনভারসেশন ডেস্কঃ
জুন ১, ২০২২ ২:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফল ও সবজীর বিচিতে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। আমরা সাধারণত ফল খেয়ে বিচি ফেলে দেই । এমনকি সবজি রান্নার সময় বিচি ফেলে রান্না করি । ফল ও সবজির বিচির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই হয়তো অজানা । তাই ফল ও সবজির বিচি ফেলে না দিয়ে তার স্বাদ ও পুষ্টিগুণ আমাদের গ্রহণ করা উচিত ।

এখন জেনে নেওয়া যাক, ফল ও সবজির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে :

আমের আঁটি বা বিচির উপকারিতা আম খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি আমের আঁটি বা বিচিরও রয়েছে নানা উপকার। যা আমরা অনেকেই জানি না। আম খেয়ে আমের আঁটি বা বিচি আমরা সাধারণত ফেলেই দেই। আসুন জেনে নেই আমের আঁটি বা বিচির উপকারিতা সম্পর্কে। আমের বিচি ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে আমের বিচির নির্যাস খেতে পারেন। ফ্যাট বার্ন করতে আমের বিচি অত্যন্ত কার্যকরী। ডায়রিয়া হলে আমের বিচি শুকিয়ে গুঁড়ো করে পানির সঙ্গে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এ গুঁড়ো স্ক্যাল্পে লাগালে খুশকির সমস্যা দূর হয়।

কমলার বিচির যত গুণ

সাইট্রাসে ভরপুর কমলার ফলটিকে ‘শক্তি ঘর’ বলা হয়। খোসা থেকে বিচি, কমলার প্রতিটি অংশে রয়েছে অনেক গুণ। সাধারণত কমলার বিচি আমরা ফেলেই দেই, কিন্তু কমলার বিচি যে কত উপকারী সেটা আমরা কেউ জানি না। কমলার বিচিতে আছে ডি-লিমোনেন ও ভিটামিন সি। এগুলো ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে উপকারী। বিশেষ করে ফুসফুস, ত্বক ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে এটি সাহায্য করে। রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কোলেস্টেরল কমায়। কমলার বিচিতে থাকা পালমিটিক, ওলেইক ও লিনোলেইক এসিড শক্তি বাড়াতে উপকারী। এটি দেহের কোষে শক্তি জমিয়েও রাখে; অবসন্ন ভাব দূর করে।

বিচি কলার পুষ্টিগুণ

পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে প্রথমেই যে নামটির কথা আমাদের মাথায় আসে তা হলো কলা। অনেকেই সহজে পুষ্টি পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে প্রতিদিনের সকালের নাশতায় কলাকে বেছে নেন। হলুদ বর্ণের এ কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে উপকারী পুষ্টিগুণ। বারো মাসেই এ কলা পাওয়া যায়। কলার মধ্যে রয়েছে নানা প্রকারভেদ। এর মধ্যে অন্যতম বিচি কলা। যা খুবই পুষ্টিকর একটি ফল। বিচি কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, পটাশিয়াম, আয়রন রয়েছে। পাশাপাশি ভিটামিন বি টুয়েলভ, ভিটামিন বি সিক্স, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ডি এর অসাধারণ একটি উৎস হচ্ছে এ বিচি কলা। তাই আমাদের শরীরে এ সব ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে বিচি কলাকে আমাদের নিয়মিত ফলের তালিকায় রাখতে পারি।

জামের বিচির উপকারিতা

গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে কাঁঠাল, তরমুজের মতোই জাম অনেক প্রিয় একটি ফল। একটু টক হওয়ায় জিহ্বায় খেতেও বেশ লাগে জাম। জামের রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জামের চেয়ে জামের বিচি বেশি উপকারী। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জামের বিচি খুবই উপকারী। ফল ও বিচি উভয়েই উপস্থিত জাম্বোলাইন ও জাম্বোসাইন নামক পদার্থ রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জামের বিচি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। জামের বিচি অধিকাংশ আয়ুর্বেদিক ডায়াবেটিসের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। বিচিগুলো শুকিয়ে গুঁড়ো করে প্রত্যেকদিন খালি পেটে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পেঁপে বিচির উপকারিতা

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় পেঁপে থাকেই। আমরা সাধারণত পেঁপের বিচি ফেলে দেই। কিন্তু পেঁপের বিচি ভিটামিনে ভরপুর। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এ বিচি খুব উপকারী। পেঁপের বীজে রয়েছে ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো জরুরি কিছু খনিজ। এটি ফ্ল্যাভোনয়েডের ভালো উৎস, যা হজমশক্তি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ডেঙ্গু প্রতিরোধে, লিভারের সুরক্ষায়, ঋতুস্রাবের ব্যথা কমাতে, ওজন কমাতে ও নানারকম প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

তেঁতুলের বিচির যত গুণ

বাংলাদেশের মানুষের কাছে তেঁতুল বেশ জনপ্রিয় একটি ফল। আচার ও আচার জাতীয় ফল হিসেবে তেঁতুলের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। তেঁতুলের আচার মানেই জিভে পানি চলে আসার মতো ব্যাপার। বিভিন্ন ধরনের ফল মেখে খাওয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে শুধু তেঁতুলই নয়, তেঁতুলের বিচিরও রয়েছে নানা উপকারিতা। পাটকল ও কাপড়ের মিলে সুতা রং করার কাজে, মশার কয়েল তৈরির কাঁচামাল হিসেবে, শুষ্ক চোখের চিকিৎসায় ড্রপ তৈরিতে, ইউনানি, আয়ুর্বেদ, হোমিও ও অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ তৈরিতে ও ছবি আঁকার আঠা হিসেবেও কাজ করে এই তেঁতুলের বিচি।

কাঁঠালের বিচির যত ব্যবহার

আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। তবে কাঁঠাল জাতীয় ফল হলেও অনেকে কাঁঠাল খেতে পছন্দ করেন না। তবে কাঁঠাল খেতে পছন্দ না করলেও কাঁঠালের বিচি কিন্তু প্রায় সবার প্রিয়। ভর্তা করে, বিভিন্ন তরকারিতে ও মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করে অথবা শুধু ভেজেও খাওয়া যায় কাঁঠালের বিচি। কাঁঠালের বিচির রয়েছে অনেক উপকারিতা। এর প্রোটিন শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাছ, মাংস যাদের কম খাওয়া হয় তাদের জন্য আমিষের চাহিদা মেটাতে কাঁঠালের বিচি উৎকৃষ্ট খাবার। কাঁঠালের বিচি বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। হজম শক্তি বাড়ায়। থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে ও আরও অসংখ্য উপকার পাওয়া যায়।

তরমুজের বিচির গুণাগুণ

গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে তরমুজ খুব জনপ্রিয়। গরমে তৃষ্ণা মেটাতে এর জুড়ি মেলা ভার। সাধারণত তরমুজ খাওয়ার সময় তরমুজের বিচি বিরক্তি তৈরি করে। কিন্তু আপনি জানেন কি তরমুজের মতো তরমুজের বিচিরও রয়েছে নানা উপকারিতা! তরমুজের ক্ষেত্রে এর বীজের ওপরের কালো খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা অংশ বের করা হয়। এতে বিচিগুলো জীবাণুমুক্ত হয়, পুষ্টিগুণ বাড়ে আর হজমে সহজ হয়। এ বিচিগুলোতে প্রোটিন, ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম আর উপকারী ফ্যাট থাকে যা কোলেস্টেরল কমায় আর হার্টের অসুখ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে। তবে সরাসরিও তরমুজের বিচি খাওয়া যায়।

কুমড়ো বিচির উপকারিতা

কুমড়ার বিচি (বীজ) ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও প্রোটিনের ভালো একটি উৎস। বিচিগুলোতে অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড উচ্চমাত্রায় রয়েছে। এই ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে, পেশির জ্বালাপোড়ার অনুভূতি কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ওজন কমানো, চুলের বৃদ্ধিসহ কুমড়োর বিচির নানা গুণ রয়েছে ।

শিমের বিচির উপকারিতা

অনেকেরই পছন্দের সবজির তালিকায় আছে শিমের নাম। এটি খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। শিমের বিচিতে রয়েছে উচ্চমানের ফাইবার প্রোটিন, যা শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন। ক্যান্সার প্রতিরোধ: কালো শিমের বিচিতে বিপুল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ৮ ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েডস রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয় যে শিমের বিচি কোলন ক্যান্সারে সহায়ক কোলন অ্যাডেনোমার বিপরীতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে।

পটলের বিচির উপকারিতা

পটল রান্নার সময়ে তার বিচিগুলো ফেলে না দিয়ে , সেগুলো রান্না করে খাওয়া উচিত । বিজ্ঞানীরা বলেছেন,পটলের বিচির কয়েকটি উপাদান রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে । ফলে জ্বর, সর্দি কাশি ও কমে । পটলের বিচি শরীরে গেলে কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে । এবং পটল হজমের সমস্যা কমাতে ও সাহায্য করে ।