ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

নাম হিরো আলম, গরু ডাকলে অভিমান করেন মালিক

ইমরান রহমান অনিম
জুলাই ২, ২০২২ ৮:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। প্রতিবছরের মতো এবার বড় আকারের গরুগুলো সবার মনোযোগ কাড়ছে। তবে বগুড়ার ফুলবাড়ি এলাকার শৌখিন খামারি জিয়ামের এই গরু এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, আদর করে এই গরুর নাম রেখেছেন হিরো আলম। এই নামে না ডাকলে মন খারাপ করেন পশুটির মালিক।
‘আমি তো ওর নাম রেখেছি। তাহলে আপনি ওনাকে গরু বলবেন কেন? আমি তো হিরো আলম নাম রেখেছি। যার কারণে নাম ধরেই বলবেন।’ হিরো আলম নামের গরুটিকে গরু ডাকায় অভিমান করে এ কথাই বলেন পশুটির মালিক জিয়াম।

কোনো প্রশিক্ষণ না থাকলেও অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে গরুটি লালনপালন করছেন জিয়াম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল আলোচিত ব্যক্তির নামে নামকরণ করার পেছনেও আছে তার ভিন্নধর্মী যুক্তি।

জিয়াম বলেন, গরুটি জন্ম হওয়ার পর আমি সেটিকে নিজে লালনপালন করার সিদ্ধান্ত নিই। মানুষ তো সবার কাছে খারাপ হতে পারে না আবার সবার কাছে ভালোও হতে পারে না। আমি যদি হিরো আলমের কিছু কিছু গুণ বলতে চাই, তাহলে সেগুলো বেশ বড় গুণ। তবে সেগুলো আসলে হাইলাইট হয় না। আমি হিরো আলমের যেসব ভিডিও দেখেছি, বিশেষ করে কোভিড-১৯-এর সময় মানুষ যখন বাইরে যেতে পারত না, তখন সে মানুষকে অনেক সহায়তা করেছে। পাশাপাশি বন্যার সময়ও সে মানুষকে সহায়তা করেছে। মূলত তার প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি আমার গরুটির নাম হিরো আলম রেখেছি।
ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির ওজন ৯০০ কেজি। উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুটের বেশি। লম্বায় প্রায় ৯ ফুট। প্রতিদিন তিন কেজি নাজিরশাইল চালের ভাত ছাড়াও ভুট্টা, ভুসি থাকে খাদ্যতালিকায়। এর বাইরে দৈনিক ৩০ থেকে ৪০টি কলা খাওয়ানো হয় হিরো আলমকে। পোষা চতুষ্পদের প্রতি ভালোবাসা থেকে খাবারের খরচও কখনো হিসাব করে রাখেননি জিয়াম।

হিরো আলমকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন এলাকার মানুষ। অনেকেই আসছেন দূরদূরান্ত থেকে। হিরো আলম আর তার মালিকের জন্য এখন স্থানীয়রাও গর্বিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সময় নানা কারণে ট্রলের শিকার হন আশরাফুল আলম সাঈদ ওরফে হিরো আলম। এবার তার নামে রাখা হয়েছে গরুর নাম। ফুলবাড়ি ছাড়াও শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় আরও একটি গরুর নাম রাখা হয়েছে এই নামে। এ বিষয়ে তিনি কী ভাবছেন?
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে ভালোবাসে বলেই আমার নামে একেক সময় একেক জিনিসের নামকরণ করেন। তারা আমাকে ভালোবাসেন বলেই আমার নাম ব্যবহার করছেন।’
হিরো আলমের বিক্রয়মূল্য হিসেবে ৮ লাখ টাকা চাইলেও এখন পর্যন্ত একজন ক্রেতা সাড়ে ৫ লাখ টাকা দাম হাঁকিয়েছেন বলে জানান মালিক জিয়াম।