ঢাকাবুধবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পিরোজপুর জেলার সবচেয়ে বড় গরু ‘লাল বাদশা’

ইমরান রহমান অনিম
জুলাই ২, ২০২২ ৮:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অভাব-অনটনের মাঝেও গৃহিণী রোজিনার মাতৃস্নেহ আর ভালোবাসায় ছোট্ট বাদশা পরিণত হয়েছে লাল বাদশায়। নিজে তিন বেলা খাবার না খেলেও লাল বাদশার খাবারে ঘাটতি হয়নি কখনো। লাল বাদশাই এখন রোজিনার স্বপ্ন।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ভোরা গ্রামের গৃহিণী রোজিনা। স্বামী সাখাওয়াত হোসেন কৃষিকাজ করেন। টেলিভিশনে কোরবানির গরু দেখে তার শখ জাগে বিশালাকায় গরু পালনের। যেমন ইচ্ছা তেমন কাজ। সেই স্বপ্নপূরণে চার বছর আগে পাশের বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলা থেকে একটি বাছুরসহ গাভি কেনেন তিনি। তার লালনপালনের দায়িত্ব দেন স্ত্রী রোজিনাকে।

পরবর্তী সময়ে গাভিটি এক আত্মীয়র কাছে বিক্রি করলেও লাল রঙের ষাঁড়টি নিজের গোয়ালে রেখে পুষতে থাকেন। তবে ষাঁড়টির ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতে না পারলেও এর নাম রাখেন লাল বাদশা। প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করেন লাল বাদশাকে দেখতে।

গরুটি লালনপালন করছেন জীর্ণশীর্ণ একটি গোয়ালঘরে। বর্তমানে ৮ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা, ৫ ফুট উচ্চতা এবং আড়ে ৮ ফুট ৯ ইঞ্চি। চার বছরে লাল বাদশার ওজন হয়েছে ৩২ মণ। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই পিরোজপুর জেলার সবচেয়ে বড় গরু।
মোটাতাজাকরণের জন্য মানুষ গরুকে ওষুধ ও ফলমূল খাওয়ালেও আর্থিক সমস্যার কারণে রোজিনা তার গরুটিকে শুধু খৈল, ডাল, খড় ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা ঘাস খাইয়েছেন। সম্পূর্ণ দেশি গরুর আদলে লাল বাদশাকে লালনপালন করছেন তিনি।

গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ষাঁড়টি বিক্রি না করতে পারলেও এ বছর তারা লাল বাদশাকে বিক্রি করতে চাচ্ছে। তাই ষাঁড়টির মূল্য ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছেন তারা।