ঢাকাশনিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

লাখ লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জায়গা দিচ্ছে জার্মানি

ইমরান রহমান অনিম
জুলাই ৮, ২০২২ ১:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জায়গা করে দেওয়ার জন্য নিয়ম শিথিল করেছে জার্মানি। এর ফলে এক লাখেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী দেশটিতে থাকার সুযোগ পাবে। তবে অভিবাসীদের অধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে নিয়ম আরও শিথিল করা উচিত। খবর ডয়চে ভেলে’র।
ওলাফ শলজ সরকার তার নির্বাচন-পূর্ব অঙ্গীকার অনুযায়ী আরো বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর জার্মানিতে থাকার সুযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। বুধবার (০৬ জুলাই) ‘ডুলডুং’, অর্থাৎ ‘পর্যাপ্ত’ সহনশীলতা বজায় রেখে যারা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে যারা জার্মানিতে থাকছেন, এমন মানুষদের জন্য স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ দেয়া এক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে তার সরকার।

‘ডুলডুং’ হচ্ছে আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হয়েছে, অথচ বড় কোনো সমস্যার কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না, এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সাময়িকভাবে থাকার অনুমতিপত্র। নিজের দেশে যুদ্ধ চলছে বা সেখানে ফিরলে মৃত্যু-ঝুঁকি অথবা গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অথবা জার্মানিতে পড়াশোনা করছেন বা কোনো প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন- এমন ব্যক্তিদের, অথবা অন্তসত্ত্বা বা জটিল রোগে আক্রান্তদের সাধারণত এ ধরণের অনুমতিপত্র দেয়া হয়।

এ ধরণের অনুমতির ক্ষেত্রে মেয়াদ বিশেষ ক্ষেত্রে বারবার বাড়ানো গেলেও এতে চাকরি করার স্বীকৃত কোনো অধিকার থাকে না।

এ প্যাকেজে যারা অনুমতি পাবেন, তারা যে কোন সময় দেশে ফিরতে পারবেন। নতুন প্যাকেজ কার্যকর হলে অন্তত এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি ডুলডুংধারী অভিবাসনপ্রত্যাশীর জার্মানিতে স্থায়ী ভাবে থাকার সুযোগ হবে।

এ খবর জানিয়ে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ন্যান্সি ফেজার এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘‘আমরা বৈচিত্র্যময় অভিবাসনের দেশ। এখন আমরা অন্তর্ভুক্তিকরণেও আরো ভালো হতে চাই।”

তিনি আরও জানান, নতুন প্যাকেজ অনুযায়ী, (অন্তত ২০২২ সালের পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত) যাদের পাঁচ বছরের ডুলডুং রয়েছে, তাদেরকে প্রাথমিকভাবে জার্মানিতে এক বছর থাকার অনুমতিপত্র (রেসিডেন্স পারমিট) দেয়া হবে। এই এক বছরের মধ্যে জার্মান ভাষা শিখে এবং চাকরি জোগাড় করে নিজের এবং পরিবারের (যদি থাকে) খরচ বহনের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে জার্মানিতে থাকার সদিচ্ছার প্রমাণ রাখতে পারলে তাদের স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়া হবে। তবে বড় ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি, ভুল পরিচয়ে আবেদন করা ব্যক্তি বা একাই অনেক আবেদন করেছেন এমন ব্যক্তিদের এ সুযোগ দেয়া হবে না।

ক্ষমতাসীন জোট সরকারের শরিক দলগুলোর নেতারা প্যাকেজটির প্রশংসা করলেও সিডিইউ দলের মুখপাত্র আলেক্সান্দার থ্রম- এর সমলোচনা করে বলেছেন, ‘‘এর মাধ্যমে জোট সরকার অভিবাসন আইনকে খাটো করছে।” তবে গ্রিন পার্টির ওমিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এর মাধ্যমে জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর যে অভাব রয়েছে, তা অনেকখানি পূরণ হবে।