ঢাকাবুধবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

গুতেরেস-এরদোগানের মুখে ‘থুতু দিয়েছেন’ পুতিন: ইউক্রেন

ইমরান রহমান অনিম
জুলাই ২৩, ২০২২ ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাশিয়া ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোয় কৃষ্ণ সাগরের এই বন্দর হয়ে ইউক্রেনের শস্য রফতানি চুক্তি ভেস্তে গেলে যেকোনো খাদ্য সংকটের জন্য মস্কো দায়ী থাকবে বলে মন্তব্য করেছে কিয়েভ।

শনিবার (২৩ জুলাই) ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওলেগ নিকোলেনকো বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তির পরপরই রাশিয়ার এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলো জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের মুখে পুতিনের থুতু দেয়ার মতো। কারণ তারা শুক্রবারের (২২ জুলাই) চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলেন।

ওলেগ আরও বলেন, চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট বৃদ্ধির সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করবে রাশিয়া। খবর এনডিটিভির।

শনিবার ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলোতে পুনরায় শস্য রফতানি চালুর জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার একদিন পরই এ হামলা চালানো হলো। এর ফলে যুগান্তকারী ওই চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা শুক্রবার বলেছিলেন, তারা আশা করেছেন যে চুক্তিটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে। তবে শনিবারের হামলার কারণে এটি এখন সম্ভব হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। খবর রয়টার্সের।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড (সাউথ) মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে জানায়, ‘শত্রুরা ক্রুজ মিসাইল দিয়ে ওডেসা বাণিজ্যিক সমুদ্র বন্দরে হামলা চালিয়েছে। দুটি ক্ষেপণাস্ত্র বন্দরের অবকাঠামোতে আঘাত হানে। অন্য দুটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।’

এ হামলার পর রাশিয়া যে তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে তা নিশ্চিত করতে শুক্রবারের চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী জাতিসংঘ ও তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ হামলাকে ‘আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করে কিয়েভে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিঙ্ক বলেন, ‘ক্রেমলিন খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে। রাশিয়াকে জবাবদিহি করতে হবে।’

যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, শুক্রবার কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে খাদ্যশস্য রফতানিতে চুক্তি সই করে রাশিয়া ও ইউক্রেন। এতে আন্তর্জাতিক খাদ্য সংকট লাঘব হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হয়। যদিও প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা কমার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।