ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সরকারী ব্যায় কমাতে জাককানইবি’তে বাজেট কৃচ্ছ্র সাধনের সিদ্ধান্ত গৃহীত

মো. আরাফাত রহমান: জাককানইবি প্রতিনিধি:
জুলাই ২৬, ২০২২ ৫:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্র সাধন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ সরকারের জারিকৃত পরিপত্রের আলোকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সংশোধন নিয়ে এসেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) প্রশাসন। সরকারের জারিকৃত তিনটি পরিপত্রের আলোকে বাজেটের কৃচ্ছ্র সাধনের এই সিদ্ধান্ত হয়।

মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির পূর্ব আহুত এক সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর।

উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) ড. তারিকুল ইসলাম, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. নজরুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. জোবায়ের হোসেনসহ আরো অনেকে।

এই সভার পর বিভাগীয় সভাপতিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পূর্বাপর সকলকিছু তুলে ধরা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদুল বারী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল হালিমসহ অন্যান্যরা।

এ বিষয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) ড. তারিকুল ইসলাম বলেন, সভায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেইসঙ্গে সরকারের জারিকৃত পরিপত্রগুলো নিয়েও বিভিন্ন সদস্য আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে সরকারের নির্দেশনার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে কৃচ্ছ্র সাধন করে সে অনুসারে বাজেট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. পরিবহনে জ্বালানি সাশ্রয়ে রিকুইজিশন দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহার পরিহার করা। গাড়ির বর্তমান শিডিউল কমিয়ে এনে পুনরায় নতুন শিডিউল করা ।

২. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য অফিসে না থাকলে কক্ষের বাতি ও পাখার সুইচ বন্ধ নিশ্চিত করা। যে সব জায়গায় এসি আছে সেখানে এসির ব্যবহার সীমিত করা। করিডর, উন্মুক্ত ও খোলামেলা স্থানে লাইটের ব্যবহার কমিয়ে আনা ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীয় ক্রয় সীমিত করণ ।

৩. হলগুলোতে কমনপ্লেস ও বাথরুমে লাইট ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা ‌

৪. আপ্যায়নের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতা সাধনের জন্য স্বল্প মাত্রায় আপ্যায়নের আয়োজন করা ।

৫. পারতোপক্ষে অনলাইনে সভার কার্যক্রম পরিচালনা করা ।

৬. কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে। স্টেশনারী সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাজেটের ৫০ শতাংশ হ্রাস করা ।

৭. শিক্ষাসফর আয়োজনের ক্ষেত্রে স্বল্প দূরত্বে আয়োজন করতে হবে, যেখানে স্বল্প সময়ে ঘুরে আসার মধ্যদিয়ে দিয়ে অর্থ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা হবে।

৮. টিএ-ডিএ বিলের দাখিলের ক্ষেত্রে নূন্যতম পথের হিসাব ও খরচ দাখিল করা। ভ্রমণ বিলের ক্ষেত্রে রেন্ট-এ কার বা বিলাসবহুল যানবহনের বিল দাখিল পরিহার করা ।

৯. দেশের ভেতরে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে এ খাতের ব্যয়কে কমিয়ে আনা ।
সভায় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, আমরা সকলেই জানিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা সকলকেই করতে হচ্ছে।

তারপরেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক সংকট মোকাবিলা করতে পেরেছি। তবে এখানেই শেষ নয়। সামনে আরও খারাপ সময় আসতে পারে। তার প্রস্তুতি আমাদের এখনই নিতে হবে। তারই অংশ হিসেবে সরকার কৃচ্ছ্র সাধনের উপরে জোর দিয়েছে। সরকারের এই নির্দেশনার আলোকে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবো।