ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে পারে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
জুলাই ৩০, ২০২২ ২:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শিগগির শ্রীলঙ্কার মতো ঋণখেলাপি ও অর্থনৈতিক সংকটের পথ অনুসরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হয় যেসব দেশ, তার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। এটি আমদানি করা খাদ্য ও জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটির কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি যেমন বেড়েছে, তেমনি কমে গেছে নগদ অর্থের সঞ্চয়।

গত এক বছরে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অর্ধেকেরও বেশি কমে ৯০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দিয়ে তাদের মাত্র ছয় সপ্তাহের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। চলতি বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ২৪ শতাংশ মূল্যমান হারিয়েছে পাকিস্তানি রুপি। এসব কারণে অনেকেই মনে করেন, দেশটিতে সংকট অনিবার্য।

তবে এদের ব্যতিক্রম মুর্তজা সৈয়দ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক কর্মকর্তা এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সবধরনের জোগাড়যন্ত্র রয়েছে দেশটির। এর পেছনে তার বেশ কিছু যুক্তিও রয়েছে।

পাকিস্তানের বর্তমান সরকারি দেনা দেশটির জিডিপির প্রায় ৭৪ শতাংশ। একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে এটি অনেক বেশি হলেও অন্যান্য দুর্বল অর্থনীতিগুলোর তুলনায় যথেষ্ট কম। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, পাকিস্তান বিদেশিদের কাছে অনেক কম ঋণী এবং বন্ড মার্কেটের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নয়।

অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এড়াতে পাকিস্তানের আশার পালে আরও জোরে হাওয়া লেগেছে গত ১৩ জুলাই। সেদিন বহুল আলোচিত বেইলআউট প্যাকেজের বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে একটি চুক্তি করে পাকিস্তান সরকার। এতে প্রায় ১২০ কোটি ডলার পাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়েছে তাদের। এই অর্থ আগামী বছরে দেশটির আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার বিদেশি ঋণের কিস্তি মেটাতে সাহায্য করবে।

তাছাড়া আইএমএফের পুনঃসম্পৃক্ততায় চীনসহ অন্যান্য বড় ঋণদাতারা পাকিস্তানকে অবিলম্বে দেনা পরিশোধের তাগাদা দেওয়ায় নিরুৎসাহিত হবে। চুক্তিটি বাজারগুলোকেও বোঝাতে পারে যে, তারা পাকিস্তানের আর্থিক পরিস্থিতির অবমূল্যায়ন করেছে।

তবে এই পরিকল্পনার সমস্যা হলো, এতে ভুলভ্রান্তির সুযোগ খুব কম। কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতিতে স্পষ্ট যে, পাকিস্তানের রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি হচ্ছে। আগামী বছর দেশটির যে অর্থসংস্থানের প্রয়োজন হবে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী এই ঘাটতি। আগামী কয়েক মাসে এই ঘাটতি যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি না হয়, তাহলে অংকটা আর বাড়বে না।

বিনিয়োগ বা রেমিট্যান্স কমার কারণে পুঁজির দুর্বল প্রবাহ ন্যূনতম ভারসাম্যও বিনষ্ট করতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজারের আস্থা ধরে রাখাটাই হবে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে পাকিস্তানের অর্থনীতি নিয়ে আইএমএফের প্রতিবেদনগুলো সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে, নতুন সরকার যদি দেখাতে পারে, বাজেট ঘাটতি দূর করতে তার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো অগ্রগতি করছে। কিন্তু সেই বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতেও সময় প্রয়োজন।

(দ্য ইকোনমিস্ট থেকে অনুবাদ করেছেন খান আরাফাত আলী)