বুধবার , ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মাদক পাচার হচ্ছে সাবমেরিন ড্রোন দিয়ে

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০২২

বিশ্বজুড়ে সরকার, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে মাদক পাচার। এক্ষেত্রে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে পাচারকারীরা। অনেক সময় পাচারকারীদের নতুন নতুন ও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল দেখে হতবাক হয়ে যেতে হয়।

এবার তেমনই এক কৌশল খাটাচ্ছে মাদক পাচারকারীরা। এক দেশ থেকে আরেক দেশে মাদক পাচারে সাবমেরিন ড্রোন ব্যবহার করছে তারা। পানির নিচে দিয়ে মাদক পাচারের উদ্দেশে সাবমেরিনের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে এসব সাবমেরিন ড্রোন।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে এমন তিনটি সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করেছে স্পেনের পুলিশ। চালকবিহীন এসব ড্রোন সর্বোচ্চ ২০০ কেজি পর্যন্ত মালামাল বহন করতে পারে।

সাবমেরিন ড্রোন দিয়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্তত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এর মানে এসব যান নির্মাণ এবং সেগুলোকে ইউরোপজুড়ে মাদক পাচারকারীদের সরবরাহে জড়িত একটি চক্র তারা ভেঙে দিতে পেরেছেন।

স্প্যানিশ পুলিশ বলছে, নাবিক ছাড়াই চালানো সম্ভব এই প্রথম তারা এমন ডুবোযানের হদিস পেলেন। এক বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, এসব যান মাদক পাচারকারীদের দূর নিয়ন্ত্রিতভাবেই বিপুল মাদক জিব্রাল্টার প্রণালিজুড়ে পরিবহনের সুযোগ করে দিতে পারত।

জিব্রাল্টার হলো সমুদ্রের সংকীর্ণ একটি অংশ, যা মরক্কোকে স্পেন থেকে আলাদা করেছে। জব্দ হওয়া তিনটি ডুবো যানের মধ্যে একটি পুরোপুরি নির্মিত হয়েছে। বাকি দুটি এখনো নির্মাণাধীন। কোকেন পাচারে ফ্রান্সের একটি চক্রকে সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে এই দুটি ডুবোযান নির্মাণ করা হচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা ১৪ কেজি হাশিশ, ৮ কেজি গাঁজা, ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০ ইউরো এবং ৬টি বড় আকারের ড্রোনও জব্দ করেছেন। জিপিএস নেভিগেশন সিস্টেম যুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে ইন্টারনেট ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে এসব যান মাদক পাচারকারীরা সম্ভবত পরিচালনা করতে পারত।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে বাবা-ছেলেও রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের একজন হেলিকপ্টার চালনায় অভিজ্ঞ পাইলট। এ ধরনের অত্যাধুনিক যান নির্মাণে তার কারিগরি জ্ঞান আছে।

কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিশেষ করে মাদক পরিবহনের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের আকাশ, স্থল ও নৌযান নির্মাণে চক্রটি দক্ষ। চক্রটি এসব যান ডেনমার্ক, ইতালি ও ফ্রান্স ও স্পেনের অপরাধী চক্রগুলোকে সরবরাহ করে থাকে বলে অভিযোগ করছেন তারা।

তদন্তকারী ব্যক্তিরা এই প্রথম মাদক পরিবহনের উদ্দেশে তৈরি সাবমেরিন যানের সন্ধান পেল। এই বছরের শুরুর দিকে মধ্য আমেরিকার পথে থাকা চার টন কোকেইনসহ একটি সেমি-সাবমারসিবল (আধা ভাসমান) নৌযান আটক করে কলম্বিয়ার নৌবাহিনী।

মরক্কোর নিকটবর্তী হওয়ায় ইউরোপে মাদক প্রবেশের মূল পয়েন্টে পরিণত হয়েছে স্পেন। মরক্কো গাঁজা উৎপাদনকারী প্রধান দেশগুলোর একটি। এ ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার সাবেক উপনিবেশগুলোর সঙ্গেও স্পেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বের বেশির ভাগ কোকেইন এই মহাদেশে উৎপাদিত হয়।

ইউরোপকে আফ্রিকা থেকে পৃথক করেছে ১৫ কিলোমিটারের জিব্রাল্টার প্রণালি। বিশেষ করে এই পথটি মাদক পাচারকারীদের প্রিয়। এই পথে স্পিডবোট ব্যবহার করে গাঁজা পাচারের অভিযোগে গত বছরের এপ্রিলে ১০০ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।