মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ ইং, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বাংলা

অস্তিত্বের লড়াই
শহীদ শতাব্দী প্রকাশিত হয়েছে: ২০২০-০৯-১৪ ১১:২৪:৩৫ /
পরবর্তী সরকার কে হবে তা জনগণই ঠিক করবে: কাদের

সুতরাং অস্তিত্ব রক্ষার অংশ বিশেষ একটা কিছু এখনই করতে হবে।    আমাদের দেশে দুর্নীতি নিয়ে আমরা সবাই কথা বলি। আমাদের দেশে যেভাবে দুর্নীতি নিয়ে কথা হয়  পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে দুর্নীতি নিয়ে এত কথা হয় কিনা আমার জানা নাই! একটি প্রশ্ন আমার সব সময়ই করতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমি করি না। কারণ প্রশ্নটি আপনি কাকে করবেন। যেকোনো প্রশ্নের উত্তর তো থাকা চাই। যদি উত্তর না থাকে তবে? তারপরও প্রশ্নটি এখানেই রেখে যাই পাঠকদের জন্য। যেহেতু আমরা দুর্নীতি নিয়ে এত কথা সবাই বলি। আমরা নীতিবাক্য সবাই বলি। তো প্রশ্ন থেকে যায়- এই দুর্নীতি করে কে?  

আমাদের দেশে সমস্যা আছে , সমস্যার কথা সবাই বলি কিন্তু সমাধান নেই। সমাধানের কথা খুব কমই শোনা যায়।  আমাদের দেশে সমাজে একটি প্রবণতা হয়ে গেছে। আমরা সবাই সব কিছু  শর্টকাট চাই। সমস্যা আমাদের বড় বড় কিন্তু  সমাধান শর্টকাট। আমরা ধনি হতে চাই শর্টকাট। প্রভাব প্রতিপত্তি  চাই শর্টকাট।  পরীক্ষায় ভালো নম্বর চাই শর্টকাট।  সব কিছুই শর্টকাট চাইতে চাইতে আমাদের অনন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয় হয়ে যাচ্ছে। আমাদের একটি মাইন্ডসেট হয়ে আছে কিন্তু আমাদের মাইন্ড চেঞ্জ হচ্ছে না।  আমরা অন্যের উপর ভরসা করে বসে থাকি।

আমাদের ভাগ্যটাই যেন অন্যরা নির্ধারণ করে দেবে। আর না হয় আছে চুরি, ডাকাতি, খুন, গুম অথবা অন্যের সম্পদে দাঁড়ানোর প্রতিযোগিতা। শর্টকাট বড়লোক হওয়ার প্রচেষ্টা। অথবা তরুণদের কথাই যদি ধরি , মনোভাব এরকমই - কিভাবে অন্য একজন কাজ দেবে আর রোজগার করবো , অন্য একজন ভাগ্য পরিবর্তন করে নিজেকে সমাজে দাঁড়াতে দেবে। কিভাবে সরকারি চাকুরী পাওয়া যায় এই এক চিন্তা। আর তা না পেলে কিভাবে বিষণ্ণতা আমাদের গ্রাস করে বসে। আপনি যদি দেখেন- এখন আমাদের  দেশে ঘরে ঘরে ফ্রাস্ট্রেশন, তরুণদের মধ্যে বিষণ্ণতা , ড্রাগ, ঘুমের বড়ি, ইয়াবা, ইত্যাদি! এ সমাজে এমন কিছু নাই যা আপনাকে এখন আর আশ্চর্য করবে। এখন সব কিছুই স্বাভাবিক। খুন অথবা  গুমের মত ঘটনা এখন আর আমাদের আশ্চর্য করে না!  আর কি আছে যা আমাদেরকে আশ্চর্য করতে পারে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে মিডিলিস্টে যাচ্ছে তরুণরা। মরুভূমিতে যাচ্ছে কাজের সন্ধানে। জায়গা জমি বিক্রি করে ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে (এবং আরও কিছু ঘুষও দিচ্ছে অনেকে) ২০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের জন্য বাইরে গিয়ে কি কষ্টই না করে আমাদের দেশের যুবকেরা! আর বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের জন্য আমরা প্রতিনিয়ত বাহবা দিচ্ছি তাদেরকে! একবার কি আমরা ভেবে দেখি এই খরচ করে যাওয়া  টাকা গুলো অর্জন করতে সেই তরুণের কত বৎসর সময় লাগতে পারে! কিংবা আদৌ সেই টাকা কি উপার্জন করতে পারবে! রেমিটেন্স যোদ্ধা! সুন্দর উপাধিই মাত্র! বাইরে যাওয়ার প্রতিযোগিতা আজ সবারই। কেন? তিলোত্তমা কিংবা স্বর্গের নগরীর খোঁজে! কিন্তু শোনার বাংলায়-ই তো হতে পারতো স্বপ্নের দেশ! ঠিক আছে- বুঝলাম, সরকার প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ না করে সব কিছু ঢাকা কেন্দ্রিক করছে; এবং অন্যদিকে ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে, যাহা আমাদেরকে এখানে বসবাস করতে দারুণভাবে নিরুৎসাহিত করে।  কিন্তু আমার কাছে যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশা। এগুলো পরিবর্তনের জন্য তো কেউ না কেউ এগিয়ে আসতে হবে!

ছোট ছোট পদক্ষেপ: প্রত্যেকে প্রত্যেকের পজিশনে আমরা কিছু করার চেষ্টা করি না।  অথবা করতে উৎসাহ পাই না।  এখানে ইংল্যান্ডে (যেখানে আমি আটক পড়ে আছি ) ক্রাউড ফান্ডিং এর ব্যবস্থা  আছে।  সমাজের বড় বড় কর্তাব্যক্তিরা, ধনিরা একত্র হয়ে একটি ক্রাউড ফান্ডিং করতে দেখি। প্রতিটি কমিউনিটি  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থঋণ দেয়ার জন্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন।  এখানে ঋণগ্রহীতা কিংবা ঋণদাতারা উভয়ই মেম্বার হতে পারেন।  এই সমস্ত সমিতির একটি পরিচালনা কমিটি থাকে- যারা দরখাস্ত গুলো পর্যবেক্ষণ , পর্যালোচনা করেন;  ঋণ দেয়া যায় কিনা বিবেচনা করেন। অনেকটা আমাদের গ্রামীণ ব্যাংকের আইডিয়ার মত। আমাদের দেশে তো গ্রামীণ ব্যাংক আছে , কিন্তু প্রশ্ন হলও সেখান থেকে কি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের  উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। উদ্যোগ নেয়া বলতে আমি বোঝাতে চাই- ব্যবসায়ীদের ব্যবসার আইডিয়া দেয়া, ঋণ দেয়া  এবং প্রশিক্ষণ দেয়া। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক তো হল একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান। এবং অনেক সময় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক সময়ই হয়তো অনেকে সেই ঋণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকেন। ক্রাউড ফাঁইডিং তো সর্বদা সব জায়গায় করা যেতে পারে।  ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হলে আমাদের তরুণরা তাদের পিতৃভূমি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে  মরুভূমিতে গিয়ে আর কষ্ট করতে হবে না।  

ছোট্ট ব্যবসায়ীরা আমাদের পাড়া এবং শহরগুলিতে উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যে কেউ মহানগরীতে বাস করে স্বজ্ঞাতভাবে বুঝতে পারে যে ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলি নগর জীবনকে জীবনযাত্রার পক্ষে মূল্যবান করে তোলে । এই ব্যবসাগুলি আমাদের সবার আকাঙ্ক্ষিত  জীবনকে লালন করতে সহায়তা করে। আমেরিকান নগরবাদী জেন জ্যাকবস যেমন বলেছিলেন, ‘নগরীর রাস্তায় আস্থা গড়ে উঠে অনেকগুলি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান  পাবলিক ফুটপাতের যোগাযোগ থেকে। আস্থা গড়ে উঠে বিয়ারের জন্য বারে এসে থামার লোকদের থেকে , মুদি দোকানদের পরামর্শ/মতামত থেকে, বেকারিতে শপিং করতে আসা গ্রাহকদের মতামত এর গুরুত্বের উপলব্ধির মাধ্যমে। স্থানীয় এবং জাতীয় ভাবে  সার্বজনীন যোগাযোগের যোগফল জনগণের সর্বজনীন পরিচয়, শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে এবং ব্যক্তিগত বা প্রতিবেশীর প্রয়োজনের সময় একটি সংস্থান হিসাবে এগিয়ে আসার মাধ্যমে একটি একক সমাজ ব্যবস্থা থেকে’।

 সুতরাং আপনি যদি পরিবর্তনে উৎসাহী হন, অথবা উন্নয়নের কথা চিন্তা করেন, যদি দুর্নীতি দূরীকরণে উৎসাহিত হন  তবে দয়া করে আপনার স্থানীয় ক্যাফে, বুকশপ, মুদির দোকান,  কারুকাজ শিল্প সহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসাকে উৎসাহিত করুন, ক্ষুদ্র ঋণ এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করুন। সেগুলো হতে পারে এলাকা ভিত্তিক। আমি মনে করি একটি ছোট সমাজ  থেকেই বড় বড় অর্জন গুলো আসে।

আগাম জামিন পেলেন এমপি নিক্সন চৌধুরী