মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ ইং, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বাংলা

করোনা উত্তরণের উপায় এবং পরামর্শ
আয়েশা সিদ্দিকা শেলী প্রকাশিত হয়েছে: ২০২০-০৯-১৬ ১৭:০৯:৫৩ /
পরবর্তী সরকার কে হবে তা জনগণই ঠিক করবে: কাদের

কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করতে এখন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা এবং সেই সাথে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকা জরুরী। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ এবং যারা এ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন মূলত তাদের পরামর্শই সর্বাগ্রে গ্রহণযোগ্য। যেমন অনেকে ভেষজ বিভিন্ন খাদ্য গ্রহণের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন। অনেকে বলেন রসুন এবং উচ্চ ভিটামিন সি খাওয়া কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই জানতে চান। রসুন এবং ভিটামিন সি অন্যান্য খাবারের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায়/ভিট্রোর নমুনায় প্রদাহ বিরোধী সুবিধা পেতে দেখা গেছে। তবে সাধারণ ঠাণ্ডা প্রতিরোধের জন্য ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের জন্য এমনকি চিকিৎসার ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি এবং রসুন ব্যবহারের কোনও লাভ দেখা যায়নি কিংবা কোন প্রতিক্রিয়া আছে বলে জানা যায়নি। প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলোকে পুষ্টিগত দিক থেকে কম ভারসাম্যযুক্ত এবং দৈহিক শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা না রেখে ক্ষতি করতে পারে বলে মনে করা হয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে খাদ্যের অংশ হিসাবে পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর এবং ঘরে তৈরি খাদ্য, তাজা ফল এবং শাকসবজি খাওয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় বলে ধারনা করা হয়। প্রয়োজনীয় সমস্ত ভিটামিন এবং খনিজগুলি পেতে একাধিক রঙের (সবুজ, হলুদ, বেগুনি, লাল ইত্যাদি) খাবার/সবজি নির্বাচন করা জরুরী এবং সেগুলি স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরিষ্কার করা এবং রান্না করা জরুরী যাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। অনেকেই বলেন গরম জলবায়ুতে কোভিড-১৯ এর বিস্তার কম কম অর্থাৎ আমাদের দেশে যেহেতু এখন গরমকাল চলছে আমরা একটু নিরাপদে আছি। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। এটি এখনো অজানা এবং এটি নিয়ে কোন গবেষণা এখনও হয়নি। গ্রীষ্মের মাসগুলোয় বা গরম জলবায়ুগুলোতে কি কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মারা যায় তার কোন প্রমাণ নেই। বরঞ্চ আগের দুটি ভাইরাস সার্স এবং মার্সের ক্ষেত্রে এ রকম কোন কারণ দেখা যায়নি। মূলত গ্রীষ্মেই ২০০৩ সালের জুলাইয়ে সার্স হংকং এবং টরন্টোতে শীর্ষে পৌঁছেছিল এবং মার্স উত্তপ্ত আবহাওয়ায় মধ্য প্রাচ্যে প্রবলভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। এটি বলা হয়েছে, কোভিড এর ক্রান্তীয় সংক্রমণ কেমন তা দেখতে ব্রাজিল এবং ভারত এখন আগ্রহের এক বড় জায়গা এবং আমরা গত মার্চ এবং এপ্রিলে যখন গ্রীষ্মকাল তখন দক্ষিণ ভারতের গরম ও শুকনো অংশগুলোয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ট্রান্সমিশন সম্পর্কে জানা গেছে। এবং এখনো ভারতে সংক্রমণ উচ্চমাত্রায় আছে। এমন নয় যে আবহাওয়া, সব মিলিয়ে গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়া যা আর্দ্র যা ফোঁটা ফোঁটার ঝোঁক বেশী থাকে ফলে এই ভাইরাস এতদূর ছড়িয়ে পড়েনা। এবং গরম থাকাতে লোকেরা বাড়ির ভিতরে এবং বাইরে কম ভিড় করে থাকে তাই বাড়িতে শ্বাসকষ্টের ভাইরাস থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে শুধু মাত্র তাপমাত্রা বা জলবায়ুর উপর নির্ভর করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এটি ভারতীয়দের কিংবা বাংলাদেশীদের কিংবা অন্যান্য গরম দেশের লোকদের রক্ষা করতে পারবে বলে মনে হয়না। এক্ষেত্রে হাঁচি/কাশির সময় রুমাল বা ন্যাপকিন ব্যবহার, নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখা অর্থাৎ সামাজিক দুরত্ব মেনে জীবন যাপন করা , সুষ্ঠুভাবে মাস্ক পরা এবং ভাল করে হাত ধোয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ যা ভাল স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জন্য এবং কোভিড ১৯ সংক্রমণ রোধে গুরুত্ব বহ হবে বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। অনেকেই বলে থাকেন আমি যদি তরুণ ও সুস্থ থাকি তবে নিজেকে কেন সকলের থেকে বিচ্ছিন্ন করব এবং কেন সামাজিক দুরত্ব মেনে চলব। প্রত্যেক মানুষের মনে রাখা উচিত সে সমাজে কিংবা পরিবারে একা নয়। আমাদের প্রত্যেকের বাবা-মা এবং দাদা-দাদি রয়েছে। আমরা জানি অনেকে ডায়াবেটিসজনিত রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন, অনেকে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আছেন । হাঁপানির সমস্যাসহ বড় ধরনের শারীরিক সমস্যায় আছেন। কোভিডের কারণে হাসপাতাল থেকে দূরে বসবাসকারী এইসব লোকেরা অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। ক্যান্সার রোগী আছেন এবং যারা ক্যান্সার সারভাইবার তারা কম ইমিউন সমস্যার কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এই সব মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়া সুস্থ এবং তরুণদের উচিত নয়। আমরা অসুস্থ হলে আমাদের বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়বেন। আমাদের স্বামী/স্ত্রী এবং শিশুরা আমরা অসুস্থ হয়ে পড়লে অসুস্থ হয়ে পড়বে। সামাজিক দুরত্ব বা বিচ্ছিন্নতা প্রয়োজন আমাদের প্রিয় পরিবারকে রক্ষা করার জন্য, আমাদের জন্য নয়। তাই নিজের জন্য নয়, সবার জন্য নিরাপদ জীবন চাই। আর সর্বশেষ, ‘সকলের জন্য সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ লেখক: আয়েশা সিদ্দিকা শেলী

করোনায় কাজ হারিয়ে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজার কর্মী