মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ ইং, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বাংলা

একজন শেখ হাসিনা ও তরুণদের রোলমডেল
আলী আদনান প্রকাশিত হয়েছে: ২০২০-০৯-২৮ ১৬:৫৩:৩২ /
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় বাংলাদেশের করোনা ভ্যাকসিন

পরিবারের একজন সদস্য যদি মারা যায় আমরা কাতর হয়ে যাই। তার শোক ভুলতে দীর্ঘসময় লাগে। কয়েকজন সদস্য মারা গেলে ( আল্লাহ মাফ করুন) আমাদের স্বাভাবিক জীবনে বিচ্যুতি ঘটে। 

কিন্তু পৃথিবীতে একজন নারী আছেন- যিনি মাত্র ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে পরিবারের সকল সদস্যকে হারিয়েছেন। পুরো একটি গমগম করা বাড়ি একরাতের ব্যবধানে জনশূন্য হয়ে গেছে। মেয়েটি তার ছোট বোনসহ সে ধাক্কা সামলে উঠেছেন। ধীরে ধীরে তারা অভ্যস্ত হয়েছেন স্বাভাবিক জীবনে। 

মেয়ে দু’টির নিজের কোন অভিভাবক নেই। কিন্তু লাখ লাখ নেতাকর্মীর দায়িত্ব নিয়ে পার করছেন প্রায় চার দশক। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্বে আছেন দীর্ঘ সময়। শোককে শক্তিকে পরিণত করতে পারার এমন উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল।

আমাদেরকে কেউ ধমক দিলে আমরা বিচলিত হই। কেউ হুমকি দিলে পালানোর জায়গা খুঁজি। যে মানুষটির কথা বলছি তিনি প্রতি মুহুর্তে মৃত্যুর সাথে হা-ডু-ডু খেলেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে উনিশবার। পরোক্ষ হামলাসহ একুশবার। 'ন্যাড়া বেল তলায় যায় না' বা ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়' এসব প্রবাদ পায়ে মাড়িয়ে মিথ্যা প্রমাণ করে চলেছেন সে মানুষটি। তিনি বিচলিত হন না, তিনি ভয় পান না, তিনি অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান কিন্তু হাল ছেড়ে দেন না। তার জীবনের এই দিকটা আমার কাছে ভীষণ বিস্ময়কর! এই গুণটি তাকে অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে। 

যে মানুষ স্বপ্ন দেখতে জানে না সে মানুষ জীবিত থেকেও মৃত। এদেশে যারা স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সাহসের জায়গাও সেই মানুষটি। অন্যরা যখন অসম্ভব বলে এড়িয়ে যায় তিনি তখন হাসিমুখে সেই চ্যালেঞ্জ নেন। একের পর এক চ্যালেঞ্জ নেওয়ার এবং হাসিমুখে মোকাবেলা করার উদাহরণ সমসাময়িক পৃথিবীতে আর নেই। এদেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে এবং খুনীরা জীবিত অবস্থায় তা দেখবে এমনটি কেউ কখনো ভাবেনি। কিন্তু একজন ভেবেছিলেন। সেই ভাবনাটাই তার হাত ধরে বাস্তবায়িত হয়েছে বাংলার মাটিতে। দলের ভেতরে বাইরে তিনি যেভাবে দক্ষ হাতে হিংস্র হায়েনাদের কোমর ভেঙ্গে দিচ্ছেন- এতে শুধু তার দক্ষতাই নয় বরং নির্লোভ মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। যা তার আগে অন্যকোন শাসক, অন্যকোন রাজনীতিবিদ, অন্যকোন ক্ষমতাধর ব্যক্তি পারেন নি।

তিনি রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবেলা করেন। এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন উদাহরণও বিরল। অন্যরা যখন চাপাবাজিতে ব্যস্ত, ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাড়তে ব্যস্ত, সাংবাদিক সম্মেলন আর বিবৃতি দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত, স্কাইপে রাজনীতিতে ব্যস্ত, এই মানুষটি তখন রাজনীতিকে রাজনীতির মতো করেই চর্চা করে চলেছেন। প্রতিটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজনীতির প্রয়োজনে। কে শত্রু হবে আর কে মিত্র, কে কাছের বা কে দূরের এমন প্রশ্নেও তিনি নিজের আবেগ কে প্রাধান্য দেন না কখনো। বরং এমন প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়েও তিনি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেন। নিজের ঘনিষ্ট আত্মীয়দের অন্যায় মনোভাব তিনি প্রশ্রয় দেন নি। নিজ দলের রাঘব বোয়ালদের তিনি ধরাশায়ী করেন। আছে নাকি এমন অন্য কেউ? 

অনেকে অনেক মোটিভেটরের নাম নেয়। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় মোটিভেটর সেই মানুষটি যাকে নিয়ে আমি লিখছি। এদেশের তরুনরাও যদি এ মানুষটির দিকে তাকায় অন্তত হতাশ হবে না। শিখতে পারবে কীভাবে শুন্য থেকে শুরু করতে হয়। কীভাবে সব হারানোর পরও আজকে থেকে খালি হাতে যাত্রা করতে হয়। 

সেই মানুষটিকে আপনি পছন্দ না করতে পারেন। সেটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সবকিছুতেই আপনার পেট ব্যথা। সেটা আপনার অসুখ। চিকিৎসা আপনাকেই করতে হবে। কিন্তু সেই মানুষটি নতুন ইতিহাস নির্মাণ করে যাচ্ছে এমন সত্য অস্বীকার করলে তাও গায়ের জোরেই করবেন, যুক্তির জোরে নয়।

সেদিন খুব বেশী দূরে নয়; যেদিন এ মানুষটির জীবন নিয়ে, রাজনৈতিক পদ্ধতি নিয়ে, শাসন দক্ষতা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করবে। আগামী পৃথিবী সফল রাষ্ট্রনায়কদের নাম নিতে গিয়ে প্রথম যে কয়েকটা নাম নিবে তার মধ্যে এ নামটা থাকবে।

শুভ জন্মদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা!

আপনি দীর্ঘজীবী হোন।

 

লেখকঃ আলী আদনান, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কলাম লেখক

 

পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ১১ দফা দাবিতে