বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ ইং, ১৩ কার্তিক ১৪২৭ বাংলা

কিচিমিচিতে ভরপুর পঞ্চগড়ের নাজির পাড়া গ্রাম, ছুটে আসছে নানা জাতের পাখি
ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: প্রকাশিত হয়েছে: ২০২০-১০-১০ ১২:৩৫:২৭ /
হাজী সেলিমের ছেলে এরফান গ্রেফতার

এক অসাধারন বৈচিত্র। গ্রাম বাসির মায়াজালে আর অফুরন্ত ভালোবাসা বন্ধনের টানে ছুটে আসে দীর্ঘদিনের পরিচিত পানকৌরি, শামুক্খল, বক, রাতচোরা, ঘুগুসহ প্রায় দেড় হাজার পাখি। 

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পৌর এলাকার নাজির পাড়া গ্রাম। প্রতি বছরেই বংশবিস্তারের জন্য নানা জাতের এসব পাখি অতিথি হয়ে আসে এ গ্রামে। বংশবিস্তার শেষে আবার চলে যায় অজানা ভুবনে। এতে করে এ সময়টা মা ও বাচ্চা পাখির হাক-ডাক, কিচিমিচি শব্দে মুখরিত থাকে নাজির পাড়া গ্রাম। পাখিদের আনাগোনায় তাদের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা সৃষ্টি হয় গ্রাবাসির। তবে পাখির ময়লা আবর্জনা দুর্গন্ধের কারন হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষায় আর মায়ার জ্বালে আগলে রাখে তাদের। আবার স্থানীয়দের পাশাপাশি পাখিদের সুরক্ষায় গ্রামটিতে নজর রেখেছে প্রশাসন।

দেখা গেছে, বংশবিস্তারের জন্য মা পাখিরা বাচ্চা ফুটানোর পর বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় আহার যোগাতে ছুটেযান বিস্তৃণ এলাকায়। খাবার সংগ্রহ করে আনার পর লম্ভা ঠোটের ভিতরে থাকা খাবার কারাকারি করে মুখ থেকে বের করে খায় বাচ্চারা। খেলার ছলে এক ডাল থেকে আরেক ডালে লাফিয়ে ছুটা ছুটি করে। তাদের আনাগোনায় প্রকৃতির সৌন্দর্যর রুপ ফুটে উঠে এলাকা জুড়ে, তা দেখে মুগ্ধ গ্রামবাসি। তবে এবার অতি বৃস্টির কারনে কিছু পাখির বাচ্চা মারা যাওয়ায় মানূষিক ভাবে আহত হয় গ্রামবাসিরা। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় ১০বছর থেকে পাখিদের এভাবেই গ্রামে আনাগোনা। শিকারীর খপ্পরে পাখিদের যেন না পড়তে হয় এজন্য নিরাপত্তায় তৎপর স্থানীয় ও প্রশাসন। এসব অতিথি পাখি প্রতি বছরে বংশবিস্তারের জন্য জুন/জুলাই মাসের দিকে আসে এবং তাদের স্থায়ী জায়গায় গাছের ডালে বাসা বাঁধে, আবার বংশবৃদ্ধি করে নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসে চলেযায় অন্যত্রে। 

আলোক চিত্র শিল্পি ফিরোজ আল সাবাহ জানান, এখানে যে সব পাখি আছে তার মধ্যে ভিন্ন ধরনের পাখি হলো সামুকখল, যার আহার শসামুকের ভিতরের অংশ, এবং এর প্রজনন মৌসুম হলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। 

বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোলেমান আলী জানান, এ এলাকায় আমগাছসহ বিভিন্ন গাছে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। এবার অতি বৃস্টির কারনে অনেক পাখির বাচ্চা পড়ে গিয়ে আহত হয়, গ্রামবাসি তাদের সংরক্ষণ করে রাখে। এসব পাখিকে কেও যেন অবৈধ ভাবে বিতারিত বা শিকার করতে না পারে সেলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজর রাখা হচ্ছে। পাখিগুলো উপজেলার প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষা করছে এবং অতিথি পাখি আরও বৃদ্ধিপাবে এমন লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।

 

ফ্রান্সের উচিৎ মুসলিম দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা: রুহানি