বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ ইং, ১৩ কার্তিক ১৪২৭ বাংলা

কাশফুলের শুভ্রতায় অপরুপা ধরলার চর
রতি কান্ত রায় প্রকাশিত হয়েছে: ২০২০-১০-১০ ২১:২১:৩৭ /
হাজী সেলিমের ছেলে এরফান গ্রেফতার

নীল আকাশে পানি বিহীন সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুলের শুভ্রতা। বর্ষাকে বিদায় জানিয়ে সাদা তুলোর মতো মেঘের সঙ্গে কাশফুল মিশে একাকার হয়ে প্রকৃতিতে ছড়ায় মুগ্ধতা ও দুলতে থাকা কাশফুল যেন ঝাঁকে ঝাঁকে নৃত্যরত নর্তকী।

শরৎতের অপরুপ সাজে সেজেছে ধরলার বুকে জেগে ওঠা চরগুলি । ধরলার বুকে জেগে ওঠা চরগুলিতে কাশফুল মাথা তুলা মানেই বাতাসে রটে যেত পুজো আসছে। কাশের সংখ্যা যতই বাড়তো,  ততই কমে আসতো প্রতীক্ষার দিনগুলি ।

কুড়িগ্রাম জেলার আনাচে কানাচে কাশফুল ফুটতো কিন্তু এসব এখন অতীত। অন্য জায়গাতেও কাশের সংখ্যাও এখন হাতেগোনা।অনেকটা অভিমানে যেন হারিয়ে যাচ্ছে কাশফুল।

শ্রী বকুল চন্দ্র বলেন, পুজো এলেই চারপাশ ভরে উঠত কাশফুলে। মনটা কেমন  হয়ে যেত।  কিন্তু এখন আর আগের মত কাশফুল দেখি না। কাশফুলের গুচ্ছ দেখে শুধু মন কেমন করা নয় বরং মন হারিয়েছেনও অনেকেই। প্রাকৃতিক রুপ সৌন্দর্য অার দৃষ্টি নন্দন কাশফুলের সৌন্দর্য অপরুপ মোহনীয় হয়ে ধরা পড়ে। প্রকৃতি প্রেমীরা নিজের ক্লান্তি ভুলে মনকে প্রফুল্ল করতে ছুটে অাসতেন কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

চিরল পাতার দুই পাশে ধারালো ছন জাতীয় ঘাস পুকুর পাড়ে , জমির আইলে,  উচু পতিত জমিতে জম্মে। বর্তমানে ধরলা নদীর চর ছাড়া এদের দেখা পাওয়া যায় না। ধরলার নতুন জেগে ওঠা চরে কম বেশী কাশফুল ফুটে। ধরলা নদীর চরে আপনাআপনি কাশবন এর সৃষ্টি হয়। শরৎ শেষে ফুলে বীজ সৃষ্টি  হয়ে তুলোর পাখায় বাতাসে উড়ে গিয়ে এক চর থেকে আরেক চরে কাশবন সৃষ্টি হয়। গাছ ও মুল দিয়ে নতুন গাছের সৃষ্টি হয়।

চারা গাছ বড় হলে কিছু অংশ কেটে গরু ও মহিষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়। কাশ দিয়ে গ্রামের মানুষ ঝাড়ু, ডালি, মাদুর তৈরি করেন। আগে কাশ খড় দিয়ে ঘরের ছাউনি দেওয়া হত। বর্তমানে পানের বরজের বেড়া ছাউনি, বাড়ীর সিমানা বেড়া দেওয়া হয়। কাশ গাছ কেটে কৃষক অর্থ উপার্জন করেন। শরৎতের শেষে কার্তিক মাসে কাশ গাছ কেটে মুঠা তৈরি করা হয়। প্রতি হাজার মুঠা ১২-১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

পাইকাররা ত্রুয় করে নৌকা যোগে কাশের মুঠা(বোঝা) নিয়ে যান রাজশাহী, বরিশাল, চাপাইনবাগঞ্জ প্রভৃতি স্থানে। পানের বরজে ছাউনি দেওয়ার জন্য।  শুভ কাজে কাশফুল ব্যবহার করা হয়। কাশফুলের শুভ্রতা মনের কালিমা দুর করে। তাইতো শরৎতের কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগে চরমেখলি গ্রামের আইয়ুব এর চরে ছুটে এসেছেন দর্শনার্থীরা। বিশাল কাশবন, রাশি রাশি কাশফুল এবং চরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে মুগ্ধ বিমোহিত সবাই ।

 

ফ্রান্সের উচিৎ মুসলিম দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা: রুহানি