মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ ইং, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বাংলা

নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে অনেক দাঙ্গার আশংকা, সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে
ঢাকা কনভারসেশন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে: ২০২০-১০-১৫ ১১:০৮:৫৬ /
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় বাংলাদেশের করোনা ভ্যাকসিন

আর মাস ছয়েকের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন।  দিন যত গড়াচ্ছে, রাজনৈতিক সংঘর্ষও তত তীব্র হচ্ছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির নামে যে সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, তার দায় রাজনৈতিক দলগুলিকেও নিতে হবে। শাসক দল তৃণমূলের যতটা দায়, তার চেয়ে এতটুকু কম দায় নয় বিরোধী বিজেপির।

২০১৬ সালেও পশ্চিমবঙ্গে কার্যত কোনো জায়গা ছিল না বিজেপির। ১০ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রদীপের আলোর মতোই টিটিমে অস্তিত্ব ছিল দলটির। অথচ সেই বিজেপিই ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে বঙ্গভূমিতে।  বাম এবং কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড বানাতে গিয়ে শাসক দল তৃণমূল যে বিজেপিকে খাল কেটে নিয়ে এসেছে, তা এখন প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকই মনে করেন। কিন্তু এটাই কেবল একমাত্র কারণ নয়। খুব সন্তর্পণে পশ্চিমবঙ্গের জনমানসে বিভেদের রাজনীতির বিজ রোপণ করে দিতে পেরেছে বিজেপি। কী ভাবে?

২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা কী ভাবে সাম্প্রদায়িক সুর চড়িয়েছিলেন, তা বিলক্ষণ  সবার মনে আছে। প্রায় প্রতিটি সভায় এনারসি আর সিএএ-এর প্রসঙ্গ টেনে এনে মুসলিম বিদ্বেষ প্রকট করার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিলেন তাঁরা। বাংলাদেশ সীমান্তের পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের বক্তব্য খড়ের গাদায় জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি ফেলার মতো। এবং সেটাই ঘটেছিল। বড় আকারে না হলেও দিকে দিকে ছোট ছোট সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা একাধিক ঘটেছে। এবং এখনও ঘটছে। শুধু তাই নয়, গেরুয়া বাহিনীর আইটি সেল লাগাতার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষমূলক পোস্ট করে গিয়েছে।

মাস কয়েক আগে দিল্লিতে নির্বাচন হয়েছে। বহরে দিল্লির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনো তুলনাই চলে না। দিল্লি ছোট একটি জায়গা। এখানকার নির্বাচনের বিস্তারও কম।  কিন্তু সাধারণ দিল্লি নির্বাচনেও সিএএ এবং এনআরসিকে সামনে রেখে, প্রতিবাদীদের সামনে রেখে বিজেপি কী ধরনের প্রচার চালিয়েছিল, তা এখনো অনেকের মনেই টাটকা।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত জুলাই মাসের একটি জনসভায় গরু নিয়ে করেন বিস্ফোরক মন্তব্য৷ তিনি বলেন, ‘‘বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে গরুই একমাত্র প্রাণী যে একাধারে অক্সিজেন নিশ্বাসের সাথে বাতাস থেকে গ্রহণ করে ও শ্বাস ছাড়ার সাথে তা পরিত্যাগও করে৷ এই কারণেই গরুকে আমরা মায়ের সম্মান দিই৷’’ একই সভায় তিনি বলেন যে ভারতের গির অঞ্চলের গরুর দুধে নাকি রয়েছে সোনা!

দিল্লির প্রচারের কায়দায় যদি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রচার শুরু করে, তা হলে কী ঘটতে পারে, তার আঁচ এর আগেই পাওয়া গিয়েছে। মনে রাখা দরকার, পশ্চিমঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট ৩৩ শতাংশ। মুসলিম ভোট ২৮ দশমিক ছয় শতাংশ। সেখানে সামান্য আগুন মারাত্মক হতে পারে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেরুকরণের সেই ভয়াবহতা পশ্চিমবঙ্গ দেখেছে। ২০২১ সালেও যদি সেই রাজনীতি চলতে থাকে, তা হলে মেরুকরণ আরও ভয়াবহ চেহারা নেবে।

ঠিক সেটাই ঘটছে পশ্চিমবঙ্গে। খুনোখুনি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ বিশেষ এলাকা থেকে সাম্প্রদায়িক হানাহানির খবর মিলছে। সব চেয়ে বড় কথা, গোটা রাজ্য জুড়ে এক ধরনের সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।

এক সময় ঠিক এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বিশেষ কিছু করে উঠতে পারতো না। বলা হতো, হিন্দি বলয়ের রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে চলে না। দীর্ঘ বাম এবং কংগ্রেস ঐতিহ্যই পশ্চিমবঙ্গকে বিভেদের রাজনীতি থেকে খানিক আড়াল করে রেখেছিল। তৃণমূল সেই আড়াল তুলে দিয়েছে। বিজেপিও তার সম্পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে। শুধু একটি কথাই এ ক্ষেত্রে মনে করিয়ে দেওয়া ভালো। নগর পুড়লে দেবালয়ও রক্ষা পায় না। বিজেপি যে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছে, তা একবার লেগে গেলে বিজেপিও কিন্তু তা সামলাতে পারবে না। জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবে সব। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা সে কথা মনে রেখেছেন কি?

পুনশ্চ: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির একটি অংশ দলভাঙা তৃণমূল। একসময় বিজেপি যাদের গালিগালাজ করতো, এখন তাঁরাই বিজেপির বড় বড় নেতা। বিভেদের রাজনীতি কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তাঁরা কিন্তু জানেন। আকাশে মেঘ দেখলে মাঝি নৌকো ডাঙায় তোলেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আসমানে সেই মেঘ স্পষ্ট।
রাজনীতির কাণ্ডারীরা একটু সাবধান হলেই ভালো।ডয়েচে ভেলে

দেশে করোনায় একদিনে ১৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৮০