বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ ইং, ১৩ কার্তিক ১৪২৭ বাংলা

শীতে চীন -ভারতের যুদ্ধ প্রস্তুতি কেমন?
ঢাকা কনভারসেশন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে: ২০২০-১০-১৬ ১৭:১৯:৪৬ /
ফ্লাইট চালুর পর সৌদি ফিরেছেন ৩১ হাজার বাংলাদেশি

লাদাখ উপত্যকায় লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) ভারত আর চীন দীর্ঘদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থানে । দুই দেশই দীর্ঘ শীতকালের জন্য সেখানে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৩,০০০ ফুট উচ্চতার এই সীমান্ত এলাকায় তাপমাত্রা এরই মধ্যে শূণ্য ডিগ্রির নিচে নেমে এসেছে, এবং সময়ের সাথে এই তাপমাত্রা কমতেই থাকবে। বিশ্বের উচ্চতম মরুভূমি হলো উপত্যকা। তুষারপাত এখানে তেমন সমস্যা না হলেও তীব্র শীতটাই এখানে উভয় পক্ষের সেনাদের কাবু করে ফেলতে পারে।পরবর্তী বসন্ত আসবে এপ্রিল মাসে। যদিও সেটাও অধিকাংশ মানুষের মানদণ্ডে যথেষ্ট ঠাণ্ডা। 

চীনাদের প্রস্তুতি: প্রকাশিত খবরে জানা গেছে যে, চীনের পিপলস লিবারেশান আর্মি (পিএলএ) শীতকালিন সরঞ্জামাদি দেয়ার জন্য তিব্বতের সেনাদের অগ্রাধিকার দিয়েছে, যেটা তাদের স্বাভাবিক চর্চার বিপরীত। সাধারণত নতুন শীতকালিন সরঞ্জামাদি সরবরাহের জন্য পূর্বাঞ্চলীয় ও উত্তরাঞ্চলের সেনাদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে পিএলএ। 

চীনের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানিয়েছে যে, “নতুন শীতকালিন কমব্যাট গিয়ারের পরীক্ষা করা হয়েছে তিব্বত এলাকায়। এরপর তিব্বতের শীত মোকাবেলার জন্য সেগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিব্বতের ফ্রন্টলাইন সেনাদের কাছে এরই মধ্যে সেগুলো সরবরাহ করা হয়ে গেছে”।

পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক পর্যায়ে গেছে যে, তিব্বতের ফ্রন্টলাইনের সেনাদের সুসজ্জিত রাখার জন্য উত্তরাঞ্চলে মোতায়েন সেনাদের কাছ থেকে অনেক সামগ্রি তিব্বতে নিয়ে আসা হয়েছে। চীনা মিডিয়ার মতে, পিএলএ’র নতুন শীতকালিন টহল গিয়ারের মধ্যে থার্মাল হুড, শীতকালীন প্রশিক্ষণ পোষাক, ওভারকোট, জলীয়বাস্প-শোষণক্ষম ও দ্রুত শুকানোর উপযোগী আন্ডারওয়্যার, পানিরোধী থার্মাল গ্লোভস আর মোজা, তুষারনিরোধী গ্লাস এবং বহুমুখী থার্মাল ওয়াটার বোটল। 

পিএলএ ইউনিটকে একই সাথে প্রিফ্যাব্রিকেটেড থার্মাল শেল্টার দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে। জেন্স ডিফেন্স উইকলি এবং পিএলএ ডেইলির মতে, এগুলোর ডিজাইন করেছে আর্মি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি। তিব্বত মালভূমি এবং এর আশেপাশের পার্বত্য এলাকাগুলোতে দুই বছর ধরে এই ধরণের শেল্টারগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। 

এগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সামরিক আবাসনের চেয়েও বেশি সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে থাকার জায়গা, ওয়াশরুম, টয়লেট, ওয়্যারহাউজ এবং উষ্ণ রাখার সরঞ্জামাদি। মাইনাস ৫৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেও এগুলো কাজ করতে পারে এবং ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বজায় রাখতে পারে। এই ফ্যাসিলিটিগুলো দরকার অনুযায়ী আকারে বড় ছোট করা যায়। 

ভারতের প্রচেষ্টা: ভারতীয় সেনাবাহিনীকে লজিস্টিক্যাল বিষয় নিয়ে পিএলএ’র চেয়েও বেশি মাথা ঘামাতে হচ্ছে। এর একটি কারণ হলো ভারতীয় অংশে সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে এবং সেখানে সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি গ্রীষ্মকালের মধ্যেই পুরোপুরি মজুত করতে হবে। ভারতীয় বিমান বাহিনীকে সি-১৭ গ্লোবমাস্টার থ্রি এবং সি-১৩০জে-৩০ সুপার হারকিউলিসের মতো বিমান ব্যবহার করে সেখানে সরঞ্জামাদি নিতে হচ্ছে। এই বিমানগুলো পরিচালনার জন্য অবশ্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যায় করতে হচ্ছে তাদের। 

ভারতীয় সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় আর্কটিক তাবুও নিয়ে আসছে, যেগুলো তিন থেকে পাঁচজন সেনা থাকতে পারে। এগুলোর সাথে রয়েছে প্রি-ফেব্রিকেটেড ইনস্যুলেটেড কুঁড়েঘর, যেগুলো স্থানীয়ভাবে যোগার করা হয়েছে। চীনা আবাসন ইউনিটগুলোতে জেনারেটর যুক্ত রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় ঘরগুলোতে কেরোসিন-চালিত হিটার দিয়ে উষ্ণ রাখা হয়। 

পিএলএ’র মতো ভারতীয় সেনাবাহিনীও এলএসিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দ্য ওয়্যারে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ইউরোপ থেকে উচ্চ এলাকায় টিকে থাকার উপযোগী কাপড় ও পার্বত্য সরঞ্জামাদি কেনা হয়েছে। এগুলোর জন্যও ব্যায় হয়েছে বিপুল অর্থ। একই সাথে আগে ব্যবহৃত যে সব কাপড় এখনও ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে, সেগুলিও এলএসিতে পাঠানো হয়েছে। 

সীমানার দুই পাশের পানির সরবরাহে ঘাটতি পড়তে পারে। এর একটি কারণ হলো ওই এলাকার নদী এবং খালগুলো জমে গেছে। এবং মরুভূমি হওয়ায় সেখানে খুব সামান্যই তুষার পড়ে। বাকি যে টুকু পানি এখানে সেখানে পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই পানের অযোগ্য।ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যায় ‘তৃতীয় পক্ষ’ আমেরিকাকে চীনের হুঁশিয়ারি