বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ ইং, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বাংলা

ওয়াজ মাহফিল,মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ন্ত্রণের দাবি-প্রতিক্রিয়া আলেমদের
ঢাকা কনভারসেশন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে: ২০২০-১০-২০ ১২:০৫:০৭ /
ফ্রান্সের উচিৎ মুসলিম দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা: রুহানি

বাংলাদেশে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ধর্ষণ প্রতিরোধে সাতটি প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।  

তাদের বিবৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হচ্ছে, “ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা দিয়ে নিরন্তর নারী অবমাননাকর বক্তব্য থেকে মৌলবাদীদের নিবৃত করতে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।“ এছাড়াও ‘মাদরাসা শিক্ষা কার্যক্রমকে সরকার নিয়ন্ত্রিত করা’র দাবিও করেছেন এ বিশিষ্ট নাগরিকরা।

বিবৃতিদাতারা উল্লেখ করেছেন, “বাংলাদেশে অনেক আইন রয়েছে কিন্তু এর সঠিক প্রয়োগ ঘটছে না। তাতে করে আইন তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রয়োগকারীর ওপর জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এ অবস্থায় আমরা দ্রুততম তদন্ত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার তাগিদ জানাই। বিদ্যমান আইনের অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে আইনটিকে নির্যাতিত ও ধর্ষিত নারীর অনূকুলে সংশোধনী আনার জোর দাবি জানাই।“

বিশিষ্টজনরা আরো বলছেন, “শুধুমাত্র আইন সংস্কার ও শাস্তি প্রদান করে এই জঘন্য অপরাধ থামানো যাবে না। এজন্য প্রয়োজন দেশে সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিশুদ্ধতা।”  আর এই ‘পরিশুদ্ধতা’র জন্য বিবৃতিদাতারা মাদ্রাসা শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষার প্রতি তাদের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেছেন।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, কবি নির্মলেন্দু গুণ, ডা. সারোয়ার আলী, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী প্রমুখ।


বিশিষ্ট একুশ জনের বিবৃতি প্রসঙ্গে জাতীয় তাফসীর পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম রেডিও তেহরানকে বলেন, ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে কোনো কোনো মহল মাদ্রাসা শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসন নিয়ে ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। সেকারণেই ধর্ষণের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তি বলে কথিত কয়েকজন নাগরিক মাদ্রাসা ও ওয়াজ মাহফিল সম্পর্কে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য  দিয়েছেন। 

মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম উল্লেখ করেন, ইসলাম নারীকে সবচেয়ে বেশী সম্মান ও সম্ভ্রমপূর্ণ স্থান দিয়েছে। নারীদের জন্য সমঅধিকার নয় বরং অগ্রাধিকার দিয়েছে ইসলাম। সেটা অনুসরণ করলেই সমাজে নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

ওদিকে, নারীর প্রতি ব্যাভিচার ও ধর্ষণ প্রতিরোধসহ ছয় দফা দাবিতে সমমনা ইসলামী দলগুলো ২২ অক্টোবর ঢাকায় ও ২৩ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

সোমবার সকাল ৮টায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তাদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২২অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাজধানীতে  বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে বাদ জোহর, বিক্ষাভ সমাবেশ ও মিছিলের এবং পরদিন ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) দেশব্যাপী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগর সড়কে ইসলামী দলসমূহের ছয় দফা দাবিতে গণমিছিল শেষে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধে শুধু আইন করলেই হবে না, আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। জেনা, ব্যাভিচার, ধর্ষণের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করতে হবে।

তিনি উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন, দেশে একদিকে করোনাভাইরাসের আক্রমণে অন্যদিকে মা-বোনদের ইজ্জত আব্রু লুণ্ঠিত হচ্ছে। হায়েনার মত নারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, হত্যা নির্যাতন করা হচ্ছে।

নূর হোসাইন কাসেমী আরও বলেন, ধর্ষণের উৎস পশ্চিমা নগ্নতা, বেহায়াপনা বন্ধ না হলে ধর্ষণ বন্ধ হবে না। পশ্চিমা সংস্কৃতির কারণে সমাজ থেকে লজ্জা, শরম উঠে যাচ্ছে। অপসংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। আমাদের শিক্ষা নীতি ও পাঠ্য সূচিকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সংস্কার করতে হবে।পারস টুডে