বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ ইং, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বাংলা

পায়েল হত্যা মামলা: বাসচালকসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
ঢাকা কনভারসেশন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে: ২০২০-১১-০১ ১৪:১৩:৪৬ /
ফ্রান্সের উচিৎ মুসলিম দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা: রুহানি

দুই বছর আগে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী মো. সাইদুর রহমান পায়েলকে হত্যা করে সেতুর উপর থেকে মরদেহ ফেলে দেয়ার ঘটনায় হানিফ পরিবহনের ড্রাইভার-হেলপার-সুপারভাইজারের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

আজ রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তিন হলেন- পায়েলকে যে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয় হানিফ পরিবহনের সেই বাসের সুপারভাইজার জনি, চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারী ফয়সাল হোসেন।  

২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাতে দুই বন্ধু আকিবুর রহমান আদর ও মহিউদ্দিন শান্তর সঙ্গে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হন সাইদুর রহমান পায়েল। ২৩ জুলাই মুন্সিগঞ্জ উপজেলার ভাটেরচর সেতুর নিচের খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে গজারিয়া থানা-পুলিশ।

নিহত পায়েল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার গোলাম মাওলার ছেলে। মরদেহ উদ্ধারের পরদিন হানিফ পরিবহনের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে আসামি করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন পায়েলের মামা গোলাম সরওয়ার্দী বিপ্লব।

এরপর হানিফ পরিবহনের ওই বাসের সুপারভাইজার জনিকে ঢাকার মতিঝিল এবং চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারী ফয়সাল হোসেনকে আরামবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে জামাল হোসেন ও ফয়সাল হোসেন দুই ভাই।  

বাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার খান খালিদ আদনান বলেন, ২০১৮ সালের ২১ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে হানিফ পরিবহনের ভালবো বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পায়েল। পরদিন ভোরে তিনি বাস থেকে প্রস্রাব করতে নামেন। বাসে ওঠার সময় দরজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে গিয়ে আহত হন পায়েল। দায় এড়াতে চালক, সহকারী ও সুপারভাইজার মিলে আহত পায়েলের মুখ থেঁতলে নদীতে ফেলে দেয়। মরদেহ উদ্ধারের পরদিন নিহতের মামা মামলা করেন।

গজারিয়া থানা পুলিশ ওই তিনজনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ৩ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বিচার কাজ শুরু হলেও পরিবারের আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেই বিচারাধীন ছিল।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচার কাজ শুরু হয়। এ মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন। এছাড়া আসামিপক্ষে চারজন সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন।