শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১ ইং, ২ মাঘ ১৪২৭ বাংলা

খেলার জের ধরে চেয়ারম্যানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অশ্লীল গালি ও শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা
ইউসুপ নূরী, কক্সবাজার প্রতিনিধি প্রকাশিত হয়েছে: ২০২১-০১-০৭ ২৩:০৬:৪০ /
ওয়াশিংটনে পার্লামেন্ট ভবনে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৪

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার বেশ কিছু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ।অভিযোগকৃত চেয়ারম্যান মহেশখালী উপজেলার ৪নং ইউনিয়নের এ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক৷ বিগত ৪ তারিখ সোমবার বিকেল ৩.০০ টায় মহেশখালী উপজেলার অন্তর্গত শাপলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় কোয়াটার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলে চেয়ারম্যান সমর্থিত টিম এস.কে খেলাঘর আসর কায়দাবাদ বনাম বিশ্ববিদ্যালয় একাদশ অংশ নেয়৷ খেলার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান সমর্থিত টিম এস.কে খেলাঘর আসর কায়দাবাদের একজন বিদেশি খেলোয়াড় বাংলাদেশকে কটুক্তি করে Rape Bangladesh বললে বিশ্ববিদ্যালয় একাদশের এক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে তার সেই প্রতিবাদের জের ধরে শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক৷ খেলার মধ্যে দুই দলের দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সেই ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে অন্য খেলোয়াড়দের সহযোগিতায় তাদের মধ্যে মিটমাট হয়ে গেলেও পরবর্তীতে ম্যাচ শেষে চেয়ারম্যান ও তার পুত্র শেফায়েত, ভাগিনা সাবেক মেম্বার নুরুল আমিন, তারই মদদপুষ্ট কিছু লালিত যুবক ও ক্যাডার বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরীহ, শান্তিপ্রিয় ছাত্রদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানোর চেষ্টা করে তবে ছাত্রদের নিরবতা, দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার কারণে চেয়ারম্যানের পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে ছাত্ররা নিজেদের রক্ষা করতে সমর্থিত হলেও মানসিকভাবে তাদের টর্চার করা হয়৷ তাদেরকে বিভিন্ন হুমকি দেয় এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন৷ প্রতিদন্ধী নির্বাচন প্রার্থীর সমর্থক উল্লেখ করে আয়োজিত মাঠে মাইকের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তাকে ভোট দেয় নি, গেইট বন্ধ করে দেয় এবং ছাত্রদের জারজ সন্তান, বেয়াদবের বাচ্চা, খানকির পোলা, মাগির পোলা, বিশ্ববিদ্যালয় রে আমি চুদি না বলে গালিগালাজ রত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণ করার নির্দেশ দেয়। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী জানান, "নির্বাচনে ছাত্ররা তাকে ভোট দেয় নাই বলে চিরশত্রুতার অভিযোগ তুলে তার লালিত গুন্ডা বাহিনীকে উসকে দিয়ে অস্থিতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। যার ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড ছাত্রদের সংরক্ষণে আছে। এভাবে প্রকাশ্যে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রদের উপর আক্রমণ ও অপমান করায় প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে শাপলাপুরে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থাসহ রাজপথে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে ছাত্রসমাজ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আরো দাবী করেন যে," একজন ছাত্র/ ছাত্রী তার শিক্ষাজীবন শেষে রীতি অনুসারে মেধার জোরে পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকুরীতে প্রবেশের সুযোগ পেলে এবং এলাকায় ভেরিফিকেশনে আসলে তার (চাকুরী প্রর্থীর) বিরোধীতা করাই তার (চেয়ারম্যানের) মূখ্য কাজ হয়ে দাঁড়ায়! তার বিরুদ্ধে এমন নজির অহরহ। এক কথায়, তিনি সর্বদা চান এলাকায় কেউ যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারেন, কোন শিক্ষিত লোক যেনো তার ছেয়ে ভালো অবস্থানে না যায় তার জন্য সে চলে বলে কৌশলে যেভাবেই হোক তার জীবন টা ধ্বংস করে দিতে পারলেই সে ক্ষান্ত । ধন-সম্পদ, বিদ্যা-বুদ্ধিতে কেউ যেন তার সমকক্ষ বা উপরে উঠতে না পারেন যাতে তিনি এলাকায় আজীবন রাজত্ব কায়েম করতে পারেন এটিই তার একমাত্র মোটিভ। এমন ভয়ংকর দানবের হাত থেকে ছাত্র সমাজ তথা শিক্ষিত সমাজের মুক্তি চাই। মানুষরূপী এই দানব বিএনপি-জামাতের আমলে, তাদের সমর্থিত মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এবং বিশেষ কায়দায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এই কথিত চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক! এমনকি কি, তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির ২৮ নং সদস্য! এই পল্টিবাজ ও দলবাজ টাকার জোরে আজ আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান!" অভিযোগের বিষয়ে তার মন্তব্য ও সত্যতা জানতে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও কেউ ফোন ধরেননি।

জাতিসংঘে আরএসএসকে নিষিদ্ধের দাবি পাকিস্তানের